1. akfilmmultimedia@gmail.com : admin2020 :
  2. teknafchannel71@gmail.com : teknaf7120 :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও জাহাজ চলাচল নিয়ে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা, সুখবর আসছে-এমপি শাহজাহান চৌধুরী সত্য প্রতিবাদ করতে গিয়ে সংবাদে অপপ্রচার ও হয়রানি, প্রতিবাদ জানালেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাশেদুল ইসলাম সেন্টমার্টিন রোগী এলে ফোন করে খুঁজতে হয় নার্সকে, হাসপাতালের নার্স কোয়ার্টারে যুবকের যাতায়াত নিয়ে চাঞ্চল্য তথ্য মানহীন ওষুধ লিখে রোগীকে জিম্মি! টেকনাফে ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য প্রতারণার ফাঁদ: প্রেসক্রিপশন বাণিজ্যের নেপথ্যে ফারিয়া’র মিরাস টেকনাফ পৌর শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ইউএনও’র অভিযান টেকনাফের রঙ্গিখালীতে শহীদের কবর মুছে দেওয়ার অভিযোগে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন সেন্ট মার্টিনে ৭০০ টাকায় খৎনা, দুই দিন পর ৫০ শিশুর রক্তক্ষরণ : ইউএনওর গাফিলতির অভিযোগ তরুণদের মাঠে রাখতে পারলে মাদক-অপরাধ থেকে দূরে রাখা যাবে: হ্নীলায় জেএসিএফ ট্রফির উদ্বোধনে বক্তারা  কক্সবাজারে আনন্দযাত্রা হলো বিষাদে, ওড়না পেঁচিয়ে টমটমে প্রাণ গেল পর্যটক সীমার টেকনাফের পরিচয়ে চট্টগ্রামে অবস্থান, হুন্ডির আড়ালে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ রোহিঙ্গা মোঃ নূরের বিরুদ্ধে

আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার ইবাদত ইতিকাফ”হাফেজ মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম”||Teknaf71

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০
  • ৬৬৬ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ ৭১ ডেস্ক::

মহান আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বারিধারায় বিধৌত হয়ে পাপের পঙ্কিলতা থেকে পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধ হওয়ার মাস রমজান। পবিত্র রমজানের প্রতি দিবারাত্রিতে প্রতি প্রহরে পাপ থেকে আবিলতামুক্ত হওয়ার মহৎ ও মহা আয়োজন করে দিয়েছেন দয়াময় রাব্বুল আলামীন। সে মহান লক্ষ্যের চূড়ান্ত স্তর নাজাত জাহান্নাম থেকে মুক্তি, যা হয়ে থাকে রমজানের শেষ দশকে বিশেষভাবে।

ইতিকাফ হচ্ছে সে লক্ষ্যে সফল হওয়ার সুশৃঙ্খল আয়োজন। রমজানের পবিত্রতম দিনগুলোতে পাপমুক্তি ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মহা নেয়ামত অর্জিত হয় শেষ দশকের ইতিকাফের মাধ্যমে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: যখন আমি কাবা গৃহকে মানুষের জন্য সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে (মাকামে ইব্রাহিম) নামাজের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো। আর যতক্ষণ তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করো, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সঙ্গে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেওয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেয়ো না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ তাঁর আয়াতগুলো মানুষের জন্য, যাতে তারা তাকওয়া লাভ করতে পারে। (সুরা-২ [৮৭] আল বাকারা (মাদানি), রুকু: ১৫/১৫, আয়াত: ১২৫, মঞ্জিল: ১, পারা: ১ হজরত আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) আজীবন রমজানের শেষ দশকগুলো ইতিকাফ করেছেন। তাঁর ওফাতের পরও তাঁর বিবিগণ ইতিকাফ করতেন। (বুখারি ও মুসলিম; আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৪৬,

ইতিকাফ একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ইবাদাত। ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার সবকিছু ছেড়ে আক্ষরিক অর্থেই বাহ্যত আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যায়। রমজানের শেষ দশক তথা ২০ রমজান সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদের চাঁদ তথা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ৩০ রমজান পূর্ণ হয়ে ওই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত (৯ দিন বা ১০ দিন) ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ কিফায়াহ। কোনো মসজিদে মহল্লার কয়েকজন বা কোনো একজন আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবে। আর কেউই আদায় না করলে সবাই দায়ী থাকবে। তবে আদায়ের ক্ষেত্রে যিনি বা যাঁরা আদায় করবেন, শুধু তিনি বা তাঁরাই সওয়াবের অধিকারী হবেন।
১০ দিনের কম যেকোনো পরিমাণ সময় ইতিকাফ করলে তা নফল ইতিকাফ হিসেবে গণ্য হবে। নফল ইতিকাফও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল; তাই সম্পূর্ণ সুন্নত ইতিকাফ পালন করতে না পারলে যত দূর সম্ভব নফল ইতিকাফ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ইতিকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শবে কদরপ্রাপ্তি; রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ করলে শবে কদরপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। পুরুষদের মসজিদে ইতিকাফ করতে হয়; নারীরা নির্দিষ্ট ঘরে বা নির্ধারিত কক্ষেইতিকাফ করবেন। নফল ইতিকাফও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল; তাই সম্পূর্ণ সুন্নত ইতিকাফ পালন করতে না পারলে যত দূর সম্ভব নফল ইতিকাফ করাও গুরুত্বপূর্ণ। নফল ইতিকাফ বছরের যেকোনো সময়ই করা যায়। ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত; কিন্তু স্বল্প সময় (এক দিনের কম সময়) ইতিকাফ করলে তার জন্য রোজা রাখা শর্ত নয়। নফল ইতিকাফ মান্নত করলে বা আরম্ভ করে ছেড়ে দিলে, তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। এর জন্য রোজা শর্ত এবং এটি এক দিনের (২৪ ঘণ্টা) কমে হবে না।

আজকাল কোনো কোনো মসজিদে দেখা যায় ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদিম বা মসজিদ কমিটির লোকজন, এমনকি স্থানীয় মুসল্লিদের কেউই ইতিকাফ করছেন না। বরং বাইরে থেকে ভাড়াটে কাউকে এনে কিছু টাকাপয়সা দিয়ে ইতিকাফ করান। এতে ইতিকাফের লক্ষ্য অর্জন হয় না। হ্যাঁ, যে কেউ যেকোনো মসজিদে ইতিকাফ করতে পারেন এবং যে কাউকে যে কেউ হাদিয়া বা উপঢৌকন দিতে পারেন। একজন পরহেজগার লোককে সম্মানিত করা বা সহযোগিতা করাতে দোষ নেই; কিন্তু এটি যেন ইবাদতের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত না করে। (মাজমুআ ফাতাওয়া)

নারীরা নিজ ঘরে বা নির্দিষ্ট কক্ষে ইতিকাফ করবেন। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ও একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ওই ঘর বা কক্ষ থেকে বের হবেন না। তবে দরকার হলে ওই কক্ষের ভেতর থেকে বাইরের কাউকে ডাকতে পারবেন এবং কেউ ভেতরে এলে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারবেন। ইতিকাফ কক্ষটি যদি শয়নকক্ষ হয় এবং একই কক্ষে বা একই বিছানায় অন্য যে কেউ অবস্থান করেন, তাতেও কোনো ক্ষতি নেই; এমনকি স্বামীও পাশে থাকতে পারবেন, তবে স্বামী-স্ত্রীসুলভ আচরণ ইতিকাফ অবস্থায় নিষিদ্ধ; এর দ্বারা ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। ইতিকাফের সময় ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। (মাজমুআ ফাতাওয়া ও ফাতাওয়া হিন্দিয়া)। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আর তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ো না, যখন তোমরা ইতিকাফরত থাকবে মসজিদে (নির্দিষ্ট স্থানে)। (সুরা-২ [৮৭] আল বাকারা।

ইতিকাফ অবস্থায় ইতিকাফকারী ফরজ ইবাদতের বাইরে কোনো নফল ইবাদত না করলেও ইতিকাফের সওয়াব পাবেন। তবে অতিরিক্ত নফল ইবাদত করলে আরও বেশি ফজিলতের অধিকারী হবেন। যেমন: কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা, নফল নামাজ পড়া, কাজা নামাজ আদায় করা, দোয়া–দরুদ পাঠ করা, জিকির আসকার করা, তাসবিহ তাহলিল পাঠ করা।

হাফেজ মাঃ মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম
ইসলামি আলোচক বাংলাদেশ টেলিভিশন।
খতিব নিশি জামে মসজিদ, চট্টগ্রাম।
বি এস এস অনার্স লোকপ্রশাসন বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কামেল, হাদীস শরীফ
জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

copy off