1. akfilmmultimedia@gmail.com : admin2020 :
  2. teknafchannel71@gmail.com : teknaf7120 :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ চাল বিতরণ উদ্বোধন করেছেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী হ্নীলায় কোস্ট ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত  মা’দ’ক কারবারি ও অ’স্ত্র ধারীদে অ’স্ত্র জমাদিতে বলেছেন ৫ম বার নির্বাচীত এমপি শাহজাহান চৌধুরী  সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ​ঢাবিতে ‘ডুসাট’-এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ​সাবরাংয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের সম্মানে ইফতার মাহফিল: সকলে মিলে সুন্দর ও শান্তিময় টেকনাফ গড়তে চাই- জাফর আহমদ শাহজাহান চৌধুরী ৫ম বারের মত এমপি নির্বাচীত হওয়ায় টেকনাফ বিএনপির শোকরানা সভায় ও ইফতার মাহফিল  টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ রিয়াদুল জন্নাহ মডেল একাডেমি’র তিনজন শিক্ষার্থীদের সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ  শাহজাহান চৌধুরীর সমর্থনে ধানের শীষের রংগীখালী স্কুল ভোট কেন্দ্র অফিস যাদের নেতৃত্বে হয়েছে।  ক্রসফায়ার দিয়ে নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদক নির্মূল করা হবে- অধ্যক্ষ আনোয়ারী

টেকনাফে অবাধে চলছে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসা, অমান্য হচ্ছে বিস্ফোরক আইন

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ ৭১ ডেস্ক,

স্টাফ রিপোর্টার, বার্তা বাজার

বিস্ফোরক আইনের নেই কোন তোয়াক্কা, যে যার যার মতো বোতল জাত (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এলপিজি জ্বালানী গ্যাস ব্যবসার আড়ত সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফে। বোতল জাত গ্যাস পরিবহন ও সর্বরাহের সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও তা মানছেনা ডিলাররা। এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রয়েছে ওজনে গ্যাস কম দেয়ার অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন বিহীন ভাবে শহরের ফুটপাতের দোকান থেকে ফার্মেসী, মুদির দোকান, পান দোকান, স্টেশনারীর দোকানসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ধারে বোতল ভর্তি গ্যাস বিক্রি চলছে অবাদে। এসব তদারকির অভাবে দিন দিন বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি এবং যে কোন মূহুর্থে জীবন্ত বোমা আকারে বিস্ফারণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যত্রতত্র গ্যাস বিক্রি বন্ধ করতে ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর বিকল্প নেই বলে অভিমত সচেতন মহলের।

ডিলার গুলোর অধিকাংশ মালিক এলাকার চিহ্নীত ইয়াবা কারবারী এবং অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে। বিগত সময়ে টেকনাফ ফেরত খালী গ্যাসের বোতল থেকে কয়েক দফা ইয়াবার চালান আটকের ঘটনাও ঘটেছিলো। বরাবরের মতো খালী বোতলে ভরে অতি কৌশলে ইয়াবার চালান পাচার হচ্ছে বলে ধারণা সচেতন মহলের।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে বিভিন্ন কোম্পানীর মোট ৩০টি বোতল জাত গ্যাস বিক্রির অনুমোদিত ডিলার রয়েছে। তৎমধ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপে রয়েছে ৩টি। ডিলাররা চট্টগ্রাম থেকে গ্যাস ভর্তি বোতল এনে স্থানীয় ভাবে সর্বরাহ করে থাকে। বোতলজাত গ্যাস বিক্রয় অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী গ্যাস ভর্তি বোতল নির্দিষ্ট গুদামে মজুদ রাখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দুই একটি প্রতিষ্টান ছাড়া অনুমোদিত স্থানের বিপরীতে তাদের সুবিধা মতো স্থানে শত শত গ্যাস ভর্তি বোতল মজুদ করে রেখেছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে তাদের ৫০০ কেজি অর্থাৎ ৪০টির অধিক গ্যাস ভর্তি বোতল মজুদের অনুমোদন নেই। তাছাড়া যেসব গুদামে বোতল মজুদ রাখা হয়েছে সে সব গুদাম গুলোর একতৃতীয়াংশ গুদামের ফিটনেস নেই। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে এসব গুদামের অবস্থান এমন জায়গায় রয়েছে যার আশেপাশে তিন ফুটের মধ্যেই বেশ কিছু বসতবাড়ি ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্টান রয়েছে। যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটলে মারাত্বক প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। এছাড়াও পৌর এলাকার এক ডিলার নিয়ম ভঙ্গ করে দমদমিয়া তার ভাইয়ের বাড়িতে সাব ডিলার বানিয়ে নিয়মিত শতাধিক বোতল মজুদ রেখে বিক্রি করছে। একই পথে হাটছে আরো বেশ কিছু ব্যবসায়ী। এসব অবৈধ কর্মকান্ডে সহযোগীতা করছে অপারেটর কোম্পানীর বিক্র‍য় প্রতিনিধিরা। এছাড়াও প্রতিটি বোতলে ১২ কেজি গ্যাস থাকার নিয়ম থাকলেও ১২ কেজি গ্যাস পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

এদিকে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমতি ব্যতিত যে কোন প্রতিষ্টানে বোতলজাত এলপিজি গ্যাস বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও উপজেলার মুদির দোকান, চাউলের দোকান, পান দোকান, স্টেশনারী, ফার্মেসী থেকে শুরু করে যত্রতত্র রাস্তার ধারে গ্যাস ভর্তি বোতল বিক্রি হচ্ছে। কোন কোন দোকানি ২০/২৫ বোতল গ্যাস মজুদ রাখছে সবসময়। দোকানের সামনে স্তুপ করে রাখা বোতলের গায়ে যখন রোদের তাপলাগে তখন উত্তপ্ত বোতলের গায়ে এক মিনিট হাত রাখা দ্বায় হয়ে পড়ে। উচ্চ তাপমাত্রায় যে কোন সময় বিস্ফোরন হলে জনচলাচলের স্থান গুলোতে প্রাণহানি ঘটে যেতে পারে। এমনকি এসব দোকান গুলোতে নেই কোন অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। চলতি মাসে সরকারীভাবে বোতল প্রতি ১২ কেজি গ্যাস ১ হাজার ৩৩ টাকা মূল্য নির্ধারণ করলেও এসব খুচরা বিক্রেতারা দেড় হাজার থেকে বারো’শ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, ৩০টির মধ্যে হাতে গুনা কয়েকটি ডিলার নিজস্ব গাড়িতে সিলিন্ডার পরিবহন করে থাকে। বিস্ফারক আইন আনুযায়ী গ্যাসের বোতল পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন গুলোকে পরিবহনের আলাদা অনুমোদন থাকার বিধান থাকলেও বাকী প্রতিষ্টান গুলো ইচ্ছে মাফিক বিভিন্ন ট্রাক বা পিকআপ ভর্তি করে বোতল পরিবহন করে। এছাড়াও সেন্টমার্টিনে যেসব ট্রলারে করে বোতল পরিবহন করা হয় সেসব ট্রলারগুলো গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনের জন্য মোটেও উপযোগী নয়।

এসব অনিয়মের বিষয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে তারা ‘বার্তা বাজার’কে জানান, বিস্ফোরক অধিদপ্তর সবকিছু নিশ্চিত হয়ে আমাদের অনুমোদন দিয়েছে। আমরা নিজেরা কোন বোতল পরিবহন করিনা, সংশ্লিষ্ট অপারেটর কোম্পানী এসব পরিবহন করে থাকে সুতরাং যানবাহনের অনুমোদন সম্পর্কে কোম্পানী ভালো বলতে পারবে। এছাড়া যানবাহন সংকট হলে মাঝে মধ্যে অনুমোদনহীন যানবাহনে করে বোতল পরিবহনের বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তারা। কি পরিমান গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার মজুদের অনুমোদন রয়েছে জানতে চাওয়া হলে, চাহিদা বেশী থাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী অতিরিক্ত গ্যাস মজুদ রাখেন বলে জানান। কিছু গোদামে জায়গা সংকটের কারণে গ্যাস ভর্তি বোতলের পাশাপাশি খালি বোতল রাখার কারনে দেখতে বোতলের সংখ্যা অতিরিক্ত দেখায় এমনটি দাবীও করেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন ‘বার্তা বাজার’কে বলেন- টেকনাফে প্রত্যেক ডিলারকে ৫০০ কেজি বোতল জাত গ্যাস মজুদ রাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদনে নির্ধারিত গুদাম ব্যাতিত অন্য কোন স্থানে বা গুদামে বোতল জাত গ্যাস মজুদ সম্পূর্ণ বেআইনী। তাছাড়া আইন ভঙ্গ করে অতিরিক্ত মজুদ রাখলে বিধিমতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানের অনুমোদন বাতিলের বিধান রয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারে পরশাসাজিয়ে বোতল বিক্রি অনিরাপদ এবং অনুমোদিত প্রতিষ্টান ব্যতিত এমন কর্মকান্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লোকবল সংকটের কারনে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর অভাবে ডিলার গুলো কিছুটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

তবে সচেতন মহলের ধারণা, এসব প্রতিষ্টান গুলোর অনিয়মের পেছনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কিছু অসাধু লোকের হাত থাকতে পারে। তাছাড়া বিস্ফোরক পরিধদপ্তরে লোকবল কম হলে স্থানীয় প্রশাসনকে ট্যাগ করে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা জরুরী বলে মনে করেন তারা।

অনুমোদনহীন যানবাহনে করে গ্যাস ভর্তি বোতল পরিবহনের বিষয়টির ব্যাপারে টেকনাফ ট্রফিক পুলিশের পরিদর্শক টিআই মামুনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গ্যাস ভর্তি বোতল পরিবহন করতে গেলে যানবাহনের অনুমোদনের প্র‍য়োজন হয় এই বিষয়ে অবগত ছিলাম না। সামনে থেকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজ চৌধুরী বার্তা বাজারকে জানান, বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। আমরা এসব বিষয় গুলো নিয়ন্ত্রনে আনতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রনে এখন থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
error: Content is protected !!