
নাছির উদ্দীন রাজ, টেকনাফ।
কক্সবাজার টেকনাফের সদর ইউনিয়নের গোদার বিল এলাকার শিশু জান্নাতুল মাওয়া (৭) দীর্ঘ ৪বছর মরণ ব্যাধি
ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে হেরে গেলেন। শুক্কুরবার সন্ধা ৫ টা ৮ মিনিটে ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ পেইনকিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাতুল শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ( ইন্না-লিল্লাহ…)
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফ বাইতুশ শরফ রিয়াজুলজান্না আলিম মাদ্রাসার মাঠে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে জান্নাতুলের বড় চাচা কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমার জন্য এ মাস শোকের মাস, এ মাস আমার প্রিয়জন হারানো মাসে পরিনত হয়েছে, বাবা, সন্তান, ভাতিজি, দাদা সহ পরিবারের অনেকেই এ মাসেই হারিয়েছি । আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের কে জানানত দেন।

বিগত ২০২২ সালে জান্নাতুলের শরিরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়লে সুস্থতা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের দিল্লির ফোর্টিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায় পিতা আব্দুর রহমান। পরে সেখানে লাছ বোন মেরুতে পরিক্ষা শেষে রিপোর্ট দেখালে ডাঃ বিকাশ দাভা জান্নাতুলের মা-বাবা কে ডেকে বলে তাহার সুস্থতা মাত্র ৩০%, আছে । এ খবরে পিতা মাতার উপরে যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এর পরও প্রিয় সন্তান কে বাঁচাতে পিতা- মাতা বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক ডাঃ, হাসপাতাল বাদ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সন্ধায় ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ পেইনকিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক সমাজ, টেকনাফের ওলামা মাশায়েক সহ অনেকেই। তারা বলেন, জান্নাতুন একজন ছোট শিশু, তাহার কোন গুনাহ করার সুযোগ হয়নি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত দান করেন। এবং তাহার পিতা, মাতা, চাচাদের কে ধর্য্য ধারন করে শোক কে শক্তিতে পরিনত করতে পারে সে কামনা করছি।
উল্লেখ্য মরহুম শিশু জান্নাতুল টেকনাফের সদর ইউনিয়নের গোদার বিল এলাকার একটি সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাহার পিতা আব্দুর রহমান সিএনএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ি। দাদা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, ছোট চাচা বর্তমান সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং বড় চাচা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদ পদে আছেন।
জান্নাতুলের ছোট চাচা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, সে আমার মেঝ ভায়ের কন্যা। আমাদের পরিবারে প্রাণ ছিলেন। তাকে বাঁচাতে দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর চিকিৎসা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল আমার ভাই। অবশেষে আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন সেটি মনে বুঝ দিচ্ছি। আল্লাহ যেন আমার ভাতিজিকে জান্নাত দেন, সে জন্য সকলে দোয়া করবেন।
Leave a Reply