কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন এক বছর দায়িত্ব পালন শেষে আজ টেকনাফ ত্যাগ করবেন। ছাত্র-জনতা তার দায়িত্বকালীন সময়ে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারী ও বেসরকারী প্রকল্পের অর্থিক হিসাব চাওয়ার পরেও কোন সাড়া না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক ছাত্র প্রতিনিধি। একই ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকে।
ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বরের টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন শেখ এহসান উদ্দীন। একই সময় উপজেলা পরিষদ ও পৌর সভার প্রসাসক হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেন। উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার দায়িত্ব পালনকালে একদিকে যেমন নাগরিক ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌছেছিলো, অপরদিকে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দে নয়-ছয় করার অভিযোগ তুলেছিলো ছাত্র প্রতিনিধিরা।
ছাত্র প্রতিনিধি রুবাইয়েদ হোসেনের অভিযোগ, ইউএনও এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বরাদ্ধ দিয়ে অর্থিক কেলেংকারীর বিষয় আঁচ করতে পেরে গত সেপ্টেম্বরে দিকে পৌরসভার আয়-ব্যায় ও উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের হিসাব চাওয়া হয়। একই সময় হিসাবে গড়মিল পেলে তার বিরুদ্ধে আদালতের দারস্থ হবেন বলেও হুশিয়ার করা হয়। ওই সময় তিনি এবিষয়ে সম্মতি জানালেও বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। হঠাৎ বদলি আদেশ পেয়ে হিসাব না দিয়ে দ্রুত টেকনাফ ছাড়ার জোড়তোড় শুরু করেছেন।
রুবাইয়েদ আরো বলেন, তিনি দেশের যে প্রান্ততেই থাকুক, টেকনাফ উপজেলার বরাদ্দের হিসাব তাকে পয়পয় করে দিতেই হবে। অন্যতায় আমরা তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এদিকে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের এক তথ্যে জানাগেছে, দেশের এক কোটি হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ট্রেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি) স্মার্ট ফ্যামেলি কার্ড প্রদান প্রকল্পে টেকনাফ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বরাদ্দকৃত ১৫ হাজার ২৬৩ টি কার্ডের মধ্যে ৪ হাজার ফরম পূরণ হয়নি। এসব ফরমের জন্য ইউএনওকে টিসিবি থেকে তিনবার চিঠি দেওয়ার পরেও তিনি যথাযত পদক্ষেন নেননি। ফলে বঞ্চিত হলো ৪ হাজার হতদরিদ্র পরিবার।
অপরদিকে টেকনাফ পৌরসভার শাপলাচত্ত্বর ভেঙ্গে 'জিরো পয়েন্ট' নাম করণের জন্য তিনি পৌরসভা থেকে একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেন। নির্মান কাজ চলাকালিন স্বচ্ছতার জন্য প্রকল্পের নাম, বরাদ্ধকৃত অর্থের পরিমান ও প্রকল্পের বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড প্রদর্শনের নিয়ম থাকলে এই প্রকল্পে তা মানা হয়নি। ফলে প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে এতোদিন কেউ কিছু জানেনি। গতকাল শনিবার ছোট্ট এই প্রকল্পের জন্য ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ জানাজানি হওয়ার পর পৌরবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীদের বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেছে।
একই ভাবে, উপজেলা পরিষদের ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছর এর উন্নয়ন প্রকল্প, উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরীণ মেরামতে মন্ত্রনালয়ের বরাদ্দ, পৌরসভার ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্প, উপজেলা পরিষদ ও টেকনাফ পৌরসভার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ম,২য়, ৩য় ধাপ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ম ধাপের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা খাতে গৃহিত প্রকল্প, ইজিপিপি (কর্মসৃজন) খাতে নন-ওয়েজ খাতে গৃহিত প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাব অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে ইউএনও এহসান উদ্দীনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, আমি শিরউঁচু করা কর্মকর্তা। হিসাব কে নিবে আসতে বলেন। প্রতিটি প্রকল্প স্বচ্ছতার সাথে করা হয়েছে। উপজেলা ভবন মেরামতে আরো ৩ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।
জনস্বার্থে ইউএনও এর দায়িত্বকালীন সময়ে তার অফিস ও তিনি দূর্ণীতিমুক্ত ছিলেন তা প্রমান করতে প্রতিটি কর্মকান্ডের হিসাব জনসম্মুখে আনার দাবী সচেতন মহলের।
সুত্র: বার্তা সংযোগ
উপদেষ্টা সম্পাদক : জহির আহমদ, টেকনাফ উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
অফিস : আবু সিদ্দিক মার্কেট, টেকনাফ, কক্সবাজার।
মোবাইল : ০১৯০৭-৭৫৮২৫০, ০১৮৫১-৯২৯৬৫৮
Developed By : AzadWebIT.Com