
নাছির উদ্দীন রাজ, টেকনাফ।
কক্সবাজার টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তি করণ বা নতুন সীমানা নির্ধারন সংক্রান্ত আলোচনা সভায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪ দিন পার হলেও এখনো কোন আইনি ব্যবস্থা বা মামলা হয়নি বলে জানাগেছে। এতে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা বা ভাঙচুরের পর যদি আইনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা না হয়, ভবিষ্যতে অপরাধ চক্রের সদস্যরা আরো উৎসাহিত হয়ে এ রকম সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাই বিচার হীনতার সংস্কৃতি দূর করতে সরকারি স্থাপনা নিরাপদ রাখতে অপরাধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের নতুন সীমানা শনাক্ত করেন নিয়ে পরিষদের হল রুমে উন্মুক্ত আলোচনার সময় ইট,লাটি, দা, কিরিচ নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর হয়। যাতে ৭ লাখ টাকা পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ হলো সরকারের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি অংশ। এটি সরাসরি কোন কেন্দ্রীয় বা জাতীয় সরকারি অফিস না হলেও বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পরিচালিত একটি বিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই অনেকেই মনে করছেন উক্ত হামলার বিচার বা অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে চক্রের সদস্যরা উক্ত পরিষদে হামলা বা লুটপাটে আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন এলাকা বাসী।
এক অনুসন্ধানে জানা যায়, আর মাত্র কয়েক মাস পরে স্থানীয় নির্বাচন। তাই যারা ভবিষ্যতে ওই ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের কয়েক জন স্থানীয় ভোট রাজনীতির কারণে সমর্থক হারানোর আশঙ্কায় রহস্যজনকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের হামলা - ভাঙচুর কারিদের বিরুদ্ধে শনাক্তের পরও মামলা বা আইনি কার্যক্রমে যাচ্ছেনা। অনেকের প্রশ্ন তাহলে কি কারো ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলার বিচার হবে না?
রবিবার (২৬ জুলাই) সন্ধায় হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, আমরা মামলার প্রস্তুুতি নিচ্ছি। কেন সময় ক্ষেপন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আমাদের সিসি টিভির ফুটেজ রয়েছে তা দেখে দেখে শনাক্ত করতে সময় লাগছে। আমাদের পরিষদের ৭ লাখ টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো জানান, উক্ত হামলা অবশ্যই পরিকল্পিত, না হলে আমরা যখন বৈঠক বসেছি সাথে সাথে তারা হামলা করল, পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্লেকার্ড, ব্যানার কি ভাবে হাতে পেল। পরিষদ একটি সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যেটির মাধ্যমে জনগণ তৃনমুলে সরকারের সকল সুবিধা পেয়ে থাকে। তাই আমি বলব যারা উক্ত হামলা করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ও জনগণের ক্ষতি করেছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা - ভাঙচুর অবশ্যই দুঃখজনক। যারা উক্ত ঘটনা করেছে তাদের পরিষদের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বাসীন্দা ও টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আলী চৌধুরী বলেন, সরকারের উন্নয়নের কাজে বাঁধা দেওয়ায় যেমন আইনগত অপরাধ তেমনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা বা ভাঙচুর করাও আইনি অপরাধ। পরিষদের আলোচনা সভা চলা কালে যারা হামলা - ভাঙচুর করে লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে ভবিষ্যতে চক্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। যাতে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্ন হতে পারে এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম অনীক চৌধুরী জানান, পরিষদ সরকারি প্রতিষ্ঠান সেখানে হামলা - ভাঙচুর হয়েছে, কিন্তুু ৪ দিন পার হলেও কেন এখনো মামলা হয়নি সেটি আমাকে প্রশ্ন না করে আপনি চেয়ারম্যান কে প্রশ্ন করেন বলে জানিয়েছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে ভাঙচুর বা হামলার বিষয়ে ৪ দিন অতিবাহিত হলেও আমরা এখনো কোন লিখিত আবেদেন পায়নি। আবেদন করলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা সম্পাদক : জহির আহমদ, টেকনাফ উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
অফিস : আবু সিদ্দিক মার্কেট, টেকনাফ, কক্সবাজার।
মোবাইল : ০১৯০৭-৭৫৮২৫০, ০১৮৫১-৯২৯৬৫৮
Developed By : AzadWebIT.Comcopy off