জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ::
কক্সবাজারের টেকনাফে সহকারী কমিশনার (ভুমি) তথা এসিল্যান্ড নেই গত মাস থেকে। এর আগে যিনি ছিলেন তিনি ১০ আগষ্ট বদলী হয়ে অন্যত্রে চলে গেছেন। এরপর থেকে এসিল্যান্ড পদটি শুন্য রয়েছে। এছাড়া গত ৬মাস ধরে কানুনগো পদও শুন্য আছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে পুর্বের কানুনগো অবসরে চলে যাওয়ার পর থেকে ভুমি অফিসের গুরুত্বপুর্ণ এই পদটি এখনো শুন্য আছে। এদিকে উপজেলা ভুমি অফিসের টপ লেভেলের দুটি শীর্ষ পদ এসিল্যান্ড এবং কানুনগো না থাকায় ভুমি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানাগেছে। উপজেলা সুত্রে জানাগেছে, আগষ্ট মাসের ১০তারিখ টেকনাফের এসিল্যান্ডকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই তিনি নতুন কর্মস্থলে চলে গেছেন। এরপর থেকে এসিল্যান্ড পদটি শুন্য রয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতিক্তি দায়িত্ব হিসেবে রয়েছেন। তিনি অন্যান্য দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি এসিল্যান্ডের দায়িত্বও পালন করে আসছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,চট্টগ্রাম বিভাগে বর্তমানে ২৭টি উপজেলায় এসিল্যান্ড পদ শুন্য রয়েছে। বর্তমানে একটি ব্যাচ (বিসিএসের) প্রশিক্ষণে রয়েছেন। অল্পদিনের মধ্যেই প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে এসব শুন্য পদ পুরণ করা হবে। দ্রুত সময়েই এসব শুন্য পদে এসিল্যান্ড পদায়ন করা হবে জানাগেছে। অন্যদিকে কানুনগো’র পদ প্রায় উপজেলায় শুন্য রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সুত্রে জানাগেছে। নতুন করে কানুনগো পদে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বা সার্ভেয়াররা কানুনগো পদে পদোন্নতি না পাওয়া পর্যন্ত ভুমি অফিসার সার্ভেয়াররা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পালন করবেন।
এদিকে টেকনাফ ভুমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড ও কানুনগো না থাকায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ভূমি প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরী হয়েছে। জমির মালিকানা ও রেকর্ড হালনাগাদ, নামজারি-খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর, খাসজমি ব্যবস্থাপনা, সরকারি জমি রক্ষা, জমি নিয়ে বিরোধের শুনানি ও নিষ্পত্তিসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এসিল্যান্ড ও কানুনগোর গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা থাকায় পদ দুটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ভূমি অফিসের নিয়মিত কার্যক্রমের কিছু অংশ অন্যান্য কর্মকর্তা- কর্মচারীরা পরিচালনা করলেও এসিল্যান্ডের সিদ্ধান্ত, শুনানি বা অনুমোদন প্রয়োজন এমন বিষয়গুলোতে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রকার জট তৈরি হয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ কাজ নামজারি। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার কিংবা অন্য কোনো বৈধভাবে মালিকানা পরিবর্তনের পর রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নামজারি করতে হয়। এপ্রক্রিয়ায় আবেদন যাচাই, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, আপত্তি থাকলে শুনানি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মতো একাধিক ধাপ রয়েছে। নামজারি দীর্ঘায়িত হলে জমির রেকর্ড হালনাগাদে সমস্যা হয়। পরবর্তী সময়ে জমি বিক্রি, ব্যাংকঋণ, বন্ধক কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে এর প্রভাব পড়তে পারে। জমির মালিকানা, দখল, সীমানা কিংবা খতিয়ান নিয়ে বিরোধও ভূমি কার্যালয়ে নিয়মিত আসে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় শুনানি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় এ ধরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে। ছোট একটি ভূমি বিরোধ সময়মতো নিষ্পত্তি না হলে তা দীর্ঘদিন চলতে পারে এবং একপর্যায়ে আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সময়, অর্থ ও শ্রম তিনটিই নষ্ট হবে। খাসজমি ও সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনাও ভূমি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকারি জমি চিহ্নিত করা, রেকর্ড সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ, দখলমুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের ভূমি প্রশাসন সরাসরি যুক্ত। দীর্ঘ সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা না থাকলে এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও জমির রেকর্ডের বিভিন্ন জটিলতার সঙ্গেও এসিল্যান্ডের কার্যালয়ের কার্যক্রম যুক্ত। জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে রেকর্ডগত সমস্যা দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রে তা নিষ্পত্তির জন্য ভূমি অফিসের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। ফলে কর্মকর্তা সংকটের প্রভাব শুধু সেবা প্রত্যাশীদের ওপর নয়, সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। টেকনাফের মতো সীমান্তবর্তী ও দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি উপজেলায় ভূমি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব¡ আরও বেশি। জমির মালিকানা, দখল, সরকারি সম্পত্তি, খাসজমি ও রেকর্ডের বিষয়গুলোতে প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল হওয়ার সুযোগ নেই। তাই দীর্ঘ সময় এসিল্যান্ড পদ শূন্য থাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভূমিসেবা সরাসরি মানুষের সম্পদ ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় এ পদ দীর্ঘদিন শূন্য রাখা উচিত নয়। দ্রুত সময়ে একজন নিয়মিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কানুনগো পদায়নের পাশাপাশি ইতিমধ্যে জমে থাকা আবেদন, শুনানি ও অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কাজ দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে ভূমি প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সরকারি রাজস্ব আদায়েও গতি ফিরবে। ভুমি অফিসে এসিল্যান্ড এবং কানুনগো পদ শুন্য থাকার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম অনীক চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সার্ভেয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কানুনগোর দায়িত্ব পালন করছেন আর তিনি নিজেই এসিল্যান্ডের দেখছেন বলে জানান। ইউএনও আরো জানান, ভুমি সেবা কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত করতে শুন্য পদের বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়কে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অতি শীঘ্রই নতুন একজন এসিল্যান্ড পদায়ন করা হবে।#
উপদেষ্টা সম্পাদক : জহির আহমদ, টেকনাফ উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
অফিস : আবু সিদ্দিক মার্কেট, টেকনাফ, কক্সবাজার।
মোবাইল : ০১৯০৭-৭৫৮২৫০, ০১৮৫১-৯২৯৬৫৮
Developed By : AzadWebIT.Comcopy off