
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ ৭১
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আব্দুল গনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফাইল নিতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ফাইল পড়ে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করায় আব্দুল গনির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত বা প্রতিকার করা হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পেছনে ‘খুঁটির জোর’ কোথায়—এমন প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
এদিকে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমে গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সেবা বঞ্চিত নাগরিকরা।
শাহপরীরদ্বীপের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার এলাকার দুজন রোহিঙ্গাকে আব্দুল গনি পাসপোর্ট করে দিয়েছেন-এর প্রমাণ আমার কাছে আছে। এখন সব আবেদন অনলাইনে করতে হয়। এরপরও নিয়মনীতি না মেনে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কাজ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব করে আব্দুল গনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন।’
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের পাশে এক দোকানদার অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত আটটার পর বিভিন্ন এলাকার কম্পিউটার দোকানদাররা পরিষদে আসেন। অবৈধ কাজকে বৈধ করার জন্য তারা উদ্যোক্তা আব্দুল গনির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুরো পরিষদই যেন তাঁর কাছে জিম্মি হয়ে আছে।’
স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
তবে আব্দুল গনির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান বলেন, ‘উদ্যোক্তা আব্দুল গনির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্ব -১
দ্বিতীয় পর্বে আসছে আরও সঞ্চল্যকর তথ্য চোখ রাখুন....
উপদেষ্টা সম্পাদক : জহির আহমদ, টেকনাফ উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
অফিস : আবু সিদ্দিক মার্কেট, টেকনাফ, কক্সবাজার।
মোবাইল : ০১৯০৭-৭৫৮২৫০, ০১৮৫১-৯২৯৬৫৮
Developed By : AzadWebIT.Comcopy off