জাহিদ হাসান, উখিয়া।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকায় ইয়াবা পাচার, লুট ও অস্ত্রবাজিতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেড় লাখ ইয়াবা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক চিহ্নিত মাদক কারবারি আমিনের নেতৃত্বে মিয়ানমার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করে। চালানটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল নলবনিয়ার ৫ জনের একটি সিন্ডিকেটের ওপর। অভিযোগ উঠেছে, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে পুরো চালানটি সরিয়ে ফেলে চক্রটি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হস্তান্তর না করে গোপনে আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যায় তারা।
এ ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন নলবনিয়ার ছৈয়দুল বশর ও আরিফ প্রকাশ আব্বুইয়া। ইয়াবা লুটের ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে অস্ত্রের মহড়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এত বড় চালান লুটের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে থেমে নেই চক্রটির সন্ত্রাসী কার্যক্রম। গত ১২ সেপ্টেম্বর পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক মেম্বার কামাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে পালংখালী ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আমিনকে নিজ ঘর থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় চক্রটি। রাতভর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নির্যাতন চালিয়ে তার একটি পা পঙ্গু করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সীমান্তবর্তী হওয়ায় নলবনিয়া এলাকায় ইয়াবা পাচার ও লুটের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। মাদক কারবারিদের অস্ত্রের মহড়ায় অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
দেড় লাখ ইয়াবা লুট, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে পা পঙ্গু করা ও সাবেক ইউপি সদস্যকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ছৈয়দুল বশর সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, "মাদক প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে।"
উপদেষ্টা সম্পাদক : জহির আহমদ, টেকনাফ উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
অফিস : আবু সিদ্দিক মার্কেট, টেকনাফ, কক্সবাজার।
মোবাইল : ০১৯০৭-৭৫৮২৫০, ০১৮৫১-৯২৯৬৫৮
Developed By : AzadWebIT.Comcopy off