নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার শ্রেষ্ট দ্বীনি বিদ্যাপীঠ রঙ্গিখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। এতে খুশি প্রতিষ্ঠান টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবরাও। যে মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন শিক্ষা বিস্তারে জেলার শ্রেষ্ট ছিল, সেটিতে পড়ালেখার মান ঠিক থাকলেও ছিলনা কোন প্রকার দৃশ্যমান অবকাঠামো গত উন্নয়ন। শুধু সীমাবদ্ধ ছিল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে থাকা একটি ভবন, সাইক্লোন সেন্টার এবং একটি ছাত্রাবাস। যা পুরাতন হওয়াতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। যার কারণে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ এমন নিম্নে চলে গিয়েছিল কোন নতুন ছাত্র মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আসলে অভিভাবরা বা ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্ররা অবকাঠামোর দিকে থাকিয়ে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার আশায় ভর্তি না হয়ে চলে যেত। যার কারণে প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা আশপাশের শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রতিষ্ঠান নিয়ে গর্ব করার মত বিষয়ের কথা আসলে মুখ দেখানো মত সাহস পেতনা। এখন আর সেই অবস্থাতে নেই রঙ্গিখালী মাদ্রাসা।
সামাধান হয়েছে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের দীর্ঘ ৪৮ বছরের খাবার পানির সমস্যা। তৈরি হয়েছে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পানি সংযুক্ত ওয়াশরুম, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা নামাজ পড়ার স্থান, ওয়াশরুম ও ক্লাসে যাওয়ার জন্য আলাদা সিঁড়ি । ক্যাম্পাসে রাত্রি কালিন নিরাপত্তার জন্য লাইট, মসজিদ ও হাফেজ খানা সংস্কার, ছাত্রাবাস সংস্কার করে পুরাতন টিন পরিবর্তন করে নতুন টিনের পাশাপাশি দেওয়ালে লাগানো হয়েছে রং। যাতে আকর্ষিত হয়ে ছাত্ররা এখন হোস্টেলে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করছে। ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ দেখে পুনরায় ছাত্ররা ভর্তি হতে শুরু করেছে। শিক্ষাকদের জন্য চালু করেছেন পিএফ বা প্রভিডেন্ট ফান্ড যাতে এই পযন্ত ১০ লক্ষ টাকা রয়েছে, যা মাদ্রাসার ইতিহাস মনে করেন অনেক শিক্ষকেরা। রয়েছে অসহায় ও হতদারিদ্র্য শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রী পড়ালেখার সুব্যবস্থা।
উপরোক্ত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান , আমাদের মাদ্রাসায় রফিকুল আলম স্যার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসার উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। ৪৮ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার সমাধান ১২ মাসেই তিনি সামাধান করেছেন । অতীতে দেখেছি অনেকেই শুধু অধ্যক্ষের পদটির দায়িত্ব নিয়ে বসেছিল। মাদ্রাসার উন্নয়নে কেউ কাজ করেনি। আমাদের স্যারের সাহস ও দক্ষতায় যেভাবে রঙ্গিখালী মাদ্রাসার উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। আমরা ছাত্ররা মনে করি মাদ্রাসার উন্নয়নের প্রশ্নে আগামীতেও স্যারের প্রযোজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মওলাভী শিক্ষক বলেছেন, রফিক স্যারের সাহস ও সৃজনশীল মেধা রয়েছে। যার কারণে মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের অবহেলিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন দৃশ্য মান। যার ফল এখন আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ভোগ করছি।
স্থানীয় অভিভাবক নাছির উদ্দীন জানান, রফিকুল আলম স্যার মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যে হারে মাদ্রাসার পড়ালেখার মান ও অবকাঠামোগত দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে তা প্রশংসনীয়। আমরা অভিভাবকেরা চাই আমাদের ছেলে সন্তানদের পড়ালেখার মান উন্নত হওয়ার জন্য রফিকুল আলম স্যারের মত দায়িত্বশীল অধ্যক্ষ।
অধ্যাপক রফিকুল আলম (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ জানান , আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদ্রাসাটির অভাবগুলো চিহ্নিত করে সমাধান ও পূরণ করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানদের শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া গুলো পূরণ করার চেষ্টা করছি। যদি সময় পাই মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতে অনেক কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই আমি সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীদের সহযোগিতা কামনা করছি।
Leave a Reply