1. akfilmmultimedia@gmail.com : admin2020 :
  2. teknafchannel71@gmail.com : teknaf7120 :
শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নি’র্ল’জ্জ টেকনাফ উপজেলার বিএনপির একটি অংশ! স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও মানুষ বৈষম্যের শিকার: টেকনাফের বিজয় সমাবেশে অধ্যক্ষ আনোয়ারী টেকনাফ প্রেসক্লাবে মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে ৩১বার তুপ ধ্বনি ও শহীদ মিনারে ফুলদিয়ে শহীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হল বিজয় দিবসের কার্যক্রম মুক্তি ককসবাজার কর্তৃক মার্কেট লিংকেজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের দৃষ্টি নন্দন মসজিদের উদ্বোধন করেছেন টেকনাফ ইউএনও, মোঃ ইমামুল হাফিজ নাদিম মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা শ্রমিকদলের সাঃ সম্পাদক মুন্না ভারতে পা’লিয়ে সেলফি পাঠিয়েছেন হাদির ওপর হা’মলাকারী: সায়ের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেন টেকনাফের আব্দুল্লাহ ছেলে মেধাবী ছাত্র আব্দুল হাফেজ এবার ওসমান হাদির গ্রামের বাড়িতে চু’রি

বাবা ইউনুস সিকদারকে নিয়ে ফারদিন সিকদারের আবেগঘন স্ট‍্যাটাস

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

“আমার শেষ কথা” —
মরহুম ইউনুস

আমি আর বেঁচে নেই। গভীর এক নিঃস্তব্ধ রাতে ওরা আমাকে মেরে ফেলেছে।
সবাইকে বলে দিও— আমি আর নেই।
ঘাতকেরা আমার বড় দেহটাকে পিঁপড়ে ভেবে, অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিয়ে, কিল-ঘুষি আর নানা নিষ্ঠুর উপায়ে আমাকে তিলে তিলে হত্যা করেছে।
যাদের আমি একদিন আপন ভাবতাম—যারা ছিল আমার ঘরের মেহমান, রাজপথের সহযোদ্ধা, স্লোগানে যাদের কণ্ঠে আমার কণ্ঠ মিশে যেত—সেই তারাই আজ আমার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
ওদের কি একবারও আমার জন্য মায়া হলো না?
আমি মানুষ হিসেবে হয়তো ভুল করেছি, কিন্তু সে ভুলের শাস্তি কি মৃত্যুই হতে পারে?
ওরা কি ভেবেছে, আমার এই মৃত্যু আমার মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, পাড়া-মহল্লা আর সহযোদ্ধাদের মধ্যে ক্রোধ, শোক আর অভিশাপ হয়ে ফিরে আসবে?
না, ওরা মানুষ নয়—মানুষরূপী হায়েনা।
ওদের চোখের হাসি হিংস্র হায়েনার মতো, ওদের বুকে করুণা নয়, কেবল হিংস্রতা।

আমার পরিবারকে বলো—
দেশ ও জাতির জন্য তোমরা শক্ত হও।
আমার ছোট সন্তান,
তুমি শেখো—দুটি আপেলের সাথে দুটি আপেল যোগ করলে চারটি হয়।
তুমি জেনে রেখো, সত্য ও জ্ঞানের উপরই জীবন গড়ে ওঠে।
আমার বড় ছেলে,
যদি কেউ দুই আর দুই যোগ করে পাঁচ বলে, তবে সেই ভুলেই একদিন জীবন হারিয়ে যায়।
শিখে নিও—তোমার বাবা কেমন ছিল।
আমার ভালো কাজের সার্টিফিকেট তুলে ধরার দায়িত্ব আজ তোমার হাতে,
আর আমার মন্দ কাজের গ্লানি ধুয়ে দিও নিজের সততা ও সাহসে।
আমার মেয়ে,
তোমার বোনের যত্ন নিও। তোমাদরর মা ফিরার সময় যা আমাকে মনে করিয়ে দিতো… সেতো আমি এখন গত।
যেমন আমি বাসায় ফিরলে সবসময় তোমাদের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে যেতাম,
তেমনি তোমরাও একে অপরের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসবে—ভালোবাসা, সহানুভূতি, প্রার্থনা।

প্রিয়তমা,
যদিও আমি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি ,
তবে মনে রেখো — আমার ভালোবাসা মৃত্যুরও ওপারে টিকে থাকবে।
তোমার হাসি, তোমার যত্ন, তোমার স্পর্শ —
সবকিছু আমার জীবনের আলো হয়ে থাকবে।
আমি থাকব তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
প্রতিটি প্রার্থনায়, প্রতিটি স্মৃতিতে।
তুমি সুখে থেকো, সেটাই হবে আমার শান্তি।

ন্যায় ও সতর্কতার আহ্বান 💔
আমার মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু আমার আকুতি আজো শোনার মতো। আমি চাই আমার মৃত্যুকে অবহেলা করা না হোক। যদি আমার হত্যার বিচার হয়, এটি শুধু আমার জন্য নয়—এটি হবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য শিক্ষণীয় ঘটনা।
আমার হত্যাকারীরা যেন শাস্তির মুখোমুখি হয়, এবং ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়। আমি চাই, দেশবাসী বুঝুক যে আইন ও ন্যায়ের পথে থাকা শুধু সঠিক কাজ নয়, এটি অপরাধীদের প্রতিরোধের শক্তিশালী মাধ্যম।
যাদের চোখে আমার মৃত্যু শুধুই সংখ্যা, তাদের জন্য বলি: ন্যায়প্রার্থী হয়ে উঠুন। অপরাধ কখনো সফল হয় না, বিচার শেষ পর্যন্ত আসে। আমার মৃত্যু যেন দেশের সকল নেতাকর্মীকে সতর্ক করে, যেন কেউ অন্যায় পথে পা না বাড়ায়।
আমার জীবন হয়তো শেষ, কিন্তু ন্যায়ের আলোকরশ্মি যেন অব্যাহত থাকে। বিচার হল শুধুমাত্র শাস্তির মাধ্যম, এটি শেখার সুযোগ, সতর্ক থাকার শিক্ষা।

দেশ ও জাতি ,
যদি কখনো আমার জন্য মানববন্ধন বা সংবাদ সম্মেলন করো,
দয়া করে কেউ মাইক হাতে কেঁদো না।
দৃপ্ত কণ্ঠে, সাহসের সাথে জাতিকে জানিয়ে দিও—
“পদ, পদবি আর পদকের মোহে নিত্য দুর্জনের পা চাটা মানুষগুলোই
ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে লোভ আর অন্ধকারের নরকে।”
সোচ্চার হও।
আমার মতো কত মানুষ আজও প্রাণ হারাচ্ছে—অপহরণ, অজ্ঞাত খুন, গুম—
এগুলোর শেষ কোথায়?
অধিকার আদায়ের লড়াই থামিও না।
শিক্ষিত হয়েও বিবেক বিকৃত করো না।
অপহরণ, হত্যা, মুক্তিপণের নামে নিরপরাধদের মৃত্যু—এসব বন্ধ করতেই হবে।
প্রশাসনের ভাইদের বলো—
তোমরা চাইলে সব বদলে দিতে পারো।
সরকারের নির্দেশের অপেক্ষা করো না, তোমরাই হতে পারো আশার আলো।
অভিযান চালাও, পাহাড়ে ক্যাম্প গড়ো,
ড্রোন, হেলিকপ্টার টহলে পাহাড়কে মুক্ত করো—দেশকে বাঁচাও।
টেকনাফকে করো বিশ্বের দর্শনীয় স্থান,
পাহাড়, নদী, সাগরের সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ করো এই দেশ।
জেলেদের নদীতে যেতে দাও, পর্যটকদের আনো,
দেশের আয় বাড়বে, মানুষ বাঁচবে।
যদি তা না করো—
তবে পাহাড়ের অন্ধকার তোমাদের কারো না কারো প্রাণও কেড়ে নেবে,
যেমন কেড়েছে আমারটা।
এই যাত্রা অনেক লম্বা।
জানি না এর শেষ কোথায়।
হয়তো ওপারেই আমার জন্য কেউ অপেক্ষা করছে।
সেই কারণেই তো তারা আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে জীবন কেড়ে নিয়েছে।
আমি চলে যাচ্ছি।
আমাকে ক্ষমা করে দিও।
— মরহুম ইউনুস

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
error: Content is protected !!