1. akfilmmultimedia@gmail.com : admin2020 :
  2. teknafchannel71@gmail.com : teknaf7120 :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে আটক ৩ আইফোনের জন্য’ শিশু অপ্রতিমকে হত্যা দেশবিদেশ পত্রিকার বর্ষ সেরা প্রতিনিধি হলেন জসিম উদ্দিন টিপু ওবায়দুল কাদের- আরাফাতসহ ৭ জনের মৃ’ত্যু’দ’ণ্ড টেকনাফে জাম্বুরা পাড়া নিয়ে ঝগড়া, ছেলের হাতে বাবা খু’ন! ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া? তরুণ নেতৃত্বের প্রত্যয়ে আলোচনায় মোহাম্মদ ইসমাইল নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুর মৃত্যু! টেকনাফে ভাই-বোন নিখোঁজ, সন্ধান পেলে যোগাযোগ : 01811-621422 টেকনাফে একসঙ্গে দুই ভাই-বোন নূরানী শিক্ষার্থী নিখোঁজ, চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় পরিবার  লেদা স্টেশনে আবর্জনার স্তূপ: জনদুর্ভোগ চরমে, দায়িত্বে উদাসীন ব্যবসায়ীরা

আকাশ, সড়ক ও নৌপথ পেরিয়ে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল প্রবাসীর তারেকের মরদেহ

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ।

 

 

ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তারেক রহমান (৩১)। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করে গত ১৩ বছর ধরে নিয়মিত দেশে টাকা পাঠাচ্ছিলেন তিনি।

 

 

আরো কয়েক বছর পর দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নও ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গত ১৯ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের সময় তিনতলা থেকে পড়ে মারা যান তিনি।

তারেকের মরদেহ গত বুধবার রাতে বিমানযোগে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়।

 

 

এরপর ঢাকার একটি হিমায়িত লাশ পরিবহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সে করে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে তার মরদেহ নেওয়া হয় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে। সেখান থেকে ট্রলারে করে বিকেলে সেন্ট মার্টিনে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় মরদেহ। সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

তারেকের জেঠাতো ভাই আল ছাবের বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন তারেক।

 

 

বিভিন্ন সময়ে ফোনে কথা হলে বলতেন, এতদিনে দেশের জন্য খুব মায়া হচ্ছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের প্রকৃতি তাকে টানত। একবার পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে ঘুরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন।’

আল ছাবের বলেন, ‘তারেক দেশে ফিরেছেন, নিজের জন্মভূমি সেন্ট মার্টিনের মাটিতেও ফিরেছেন। তবে ফিরেছেন প্রাণহীন নিথর দেহ হয়ে।

 

 

তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেকের মরদেহবাহী ট্রলারটি সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছালে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন। স্বজন ও গ্রামের মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর শুরু হয় শোকের মাতম।

 

স্বজনেরা জানান, তারেক সেন্ট মার্টিনের এক নারীকে বিয়ে করে তাকে ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। তাদের সংসারে তিন বছর ও ছয় মাস বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তারেকের মরদেহের সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও বিমানে বাংলাদেশে আসেন। স্বামী ও বাবার মরদেহের পাশে বসেই তারা ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছান।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, তারেকের মরদেহ দেশে আনতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন তারা। সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তারা।

 

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুর রহমান বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিনে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 

তারেকের মৃত্যুর পর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী জামাল হোসাইন বলেন, মালয়েশিয়া সরকার ও স্থানীয় ঠিকাদার সরাসরি যুক্ত থাকা বড় নির্মাণকাজগুলোতে সাধারণত শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের নাগরিকদের সাব-ঠিকাদার, তদারককারী বা ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে শ্রমিকেরা ঝুঁকিতে পড়েন।

 

কালের কন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

copy off