1. akfilmmultimedia@gmail.com : admin2020 :
  2. teknafchannel71@gmail.com : teknaf7120 :
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকমুক্ত পরিবার, নিরাপদ সমাজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে পাঁচ পর্বের বিশেষ লেখা সংবাদকর্মী ইউনুছ অভি টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সাঃ সম্পাদক হলেন দুঃসময়ের পরীক্ষিত ছাত্রনেতা আরমান টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান টেকনাফ পৌর ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন ছাত্রনেতা- সাইফুর রহমান উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি- রিদুয়ান, সম্পাদক- রিয়াদ, সাংগঠনিক- রেজাউল টেকনাফ পৌর ছাত্রদলের সভাপতি- সাগর, সম্পাদক- আসিফ, সাংগঠনিক- ফিরোজ টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন, সভাপতি- শামীম, সম্পাদক- আরমান পালংখালীতে দেড় লাখ ইয়াবা আত্মসাৎ, অস্ত্রের মহড়ায় থমথমে নলবনিয়া পানির নিচে ৩ লাখ ইয়াবা! অভিনব কায়দায় লুকানো চালান উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার সাবরাংয়ে জমির পাওনা টাকা চাওয়ায় ছুরিকাঘাতে দুই ভাই রক্তাক্ত, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকির : থানায় অভিযোগ

মাদকমুক্ত পরিবার, নিরাপদ সমাজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে পাঁচ পর্বের বিশেষ লেখা সংবাদকর্মী ইউনুছ অভি

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

ইয়াবার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ি, বাঁচাই আগামী প্রজন্ম

মাদকমুক্ত পরিবার, নিরাপদ সমাজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে পাঁচ পর্বের বিশেষ সচেতনতামূলক ধারাবাহিক লেখা সংবাদকর্মী ইউনুছ অভি

 

সচেতনতামূলক ধারাবাহিক।

 

পর্ব ১

 

ছোট্ট একটি ট্যাবলেট, ধ্বংসের বিশাল ছায়া: ইয়াবার ভয়াবহতা জানুন

 

একটি পরিবার তার সন্তানকে ঘিরে স্বপ্ন দেখে। কেউ চায় সন্তান বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক, কেউ চায় পরিবারের দায়িত্ব নিক, আবার কেউ স্বপ্ন দেখে সন্তানকে নিয়ে সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়ার। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে ভয়ংকর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে মাদক।

 

ইয়াবা দেখতে ছোট একটি ট্যাবলেট হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ।

 

ইয়াবা একটি অবৈধ মাদকদ্রব্য। এতে সাধারণত মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইন থাকে। এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। সাময়িকভাবে ঘুম কমে যাওয়া, অতিরিক্ত কর্মচাঞ্চল্য কিংবা শক্তি অনুভূত হতে পারে। কিন্তু এই সাময়িক অনুভূতির আড়ালে লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

 

ইয়াবা সেবনে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে অনিদ্রা, উদ্বেগ, অস্থিরতা, সন্দেহপ্রবণতা ও মানসিক জটিলতা। নিয়মিত ব্যবহারে তৈরি হতে পারে নির্ভরশীলতা।

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, একজন তরুণ কখন যে নিজের অজান্তে মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তা অনেক সময় পরিবার বুঝতেই পারে না।

আমাদের বার্তা: ইয়াবা কোনো আনন্দ নয়, কোনো সাহস নয়, কোনো সফলতার পথও নয়। এটি জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি।

 

সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই মাদকের কুফল সম্পর্কে জানান। সচেতনতা তৈরি করুন পরিবার থেকেই।

 

পর্ব ২

 

আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন? সন্তানের প্রতি বাড়ান নজর

সন্তান আগের মতো কথা বলছে না। রাত জেগে থাকছে, পরিবারের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে। কখনো অকারণে রেগে যাচ্ছে, কখনো আবার অস্বাভাবিক অস্থিরতা প্রকাশ করছে।

 

একজন অভিভাবকের কাছে এসব পরিবর্তন উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

 

ইয়াবা বা অন্য কোনো মাদকের প্রভাবেও এমন কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

যেসব পরিবর্তনের প্রতি নজর রাখা জরুরি—

১. স্বাভাবিকের তুলনায় ঘুমের সময় অনেক কমে যাওয়া।

২. ক্ষুধা কমে যাওয়া বা ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

৩. অতিরিক্ত অস্থিরতা, উত্তেজনা কিংবা অল্পতেই রেগে যাওয়া।

 

৪. অতিরিক্ত সন্দেহ, ভয় কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ।

৫. পড়াশোনা, কাজ ও পারিবারিক দায়িত্বের প্রতি আগ্রহ হারানো।

 

৬. অর্থের প্রয়োজন বেড়ে যাওয়া কিংবা টাকার হিসাব গোপন করা।

 

তবে মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ থাকলেই কেউ মাদকাসক্ত-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। শারীরিক ও মানসিক নানা কারণেও আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে।

অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ: সন্দেহ হলে সন্তানকে অপমান করবেন না। তার কথা শুনুন, পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নিন।

সন্তানের আচরণে পরিবর্তন দেখলে দূরে সরে যাবেন না; বরং তার পাশে দাঁড়ান।

 

পর্ব ৩

 

ইয়াবার প্রভাবে শরীরে কী ঘটে? সাময়িক উত্তেজনার আড়ালে ভয়ংকর বিপদ

ইয়াবা সেবনের পর শরীর ও মস্তিষ্কে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। প্রথমদিকে কেউ কেউ অতিরিক্ত কর্মচাঞ্চল্য অনুভব করলেও এর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।

ইয়াবার প্রধান উপাদান মেথামফেটামিন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। ফলে শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম, ঘুম, ক্ষুধা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

ইয়াবা সেবনের সম্ভাব্য শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি:

হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া।

শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানো।

দীর্ঘ সময় ঘুম না হওয়া।

 

অতিরিক্ত উদ্বেগ, ভয় ও সন্দেহপ্রবণতা।

স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের সমস্যা।

গুরুতর অবস্থায় খিঁচুনি, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি।

কিছু ক্ষেত্রে মাদক গ্রহণের পর জীবনসংকটও তৈরি হতে পারে।

 

তাই ইয়াবাকে সাময়িক শক্তি বা আনন্দ পাওয়ার মাধ্যম মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

 

আমাদের আহ্বান: নিজের শরীরের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। বন্ধুদের প্ররোচনা কিংবা কৌতূহলবশত মাদকের পথে পা বাড়াবেন না।

 

সুস্থ শরীর, সুস্থ মন—এটাই সুন্দর জীবনের ভিত্তি।

 

পর্ব ৪

 

ইয়াবার পরিণতি শুধু একজনের নয়, ভেঙে দেয় পুরো পরিবার

মাদকের ক্ষতি কখনো শুধু একজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর।

 

একজন তরুণের মাদকনির্ভরতা তার পড়াশোনা, কর্মজীবন, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত স্বাভাবিক জীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে।

 

দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবহারের ফলে দেখা দিতে পারে—

স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমে যাওয়া।

দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যা।

 

বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক জটিলতা।

অতিরিক্ত সন্দেহ, বিভ্রম ও বাস্তবতা উপলব্ধিতে সমস্যা।

হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতির ঝুঁকি।

পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি।

শিক্ষা ও কর্মজীবনে ব্যর্থতা।

 

একসময় যে সন্তানকে ঘিরে বাবা-মায়ের হাজারো স্বপ্ন ছিল, মাদকের প্রভাবে সেই সন্তানই হয়তো নিজের জীবন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়তে পারে।

 

তবে এখানে একটি আশার কথাও রয়েছে।

মাদকনির্ভরতা থেকে ফিরে আসা সম্ভব। যথাযথ চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং পরিবারের সহযোগিতায় একজন মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

 

মাদকাসক্ত মানুষকে ঘৃণা নয়, চিকিৎসা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

 

পর্ব ৫

 

সন্তান মাদকাসক্ত হলে কী করবেন? শাস্তি নয়, প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

সন্তান যদি মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে একজন অভিভাবকের জন্য সেটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

 

সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, মারধর করা কিংবা সবার সামনে অপমান করা কোনো সমাধান নয়।

বরং প্রয়োজন ধৈর্য, ভালোবাসা ও সঠিক চিকিৎসা।

অভিভাবকদের করণীয়:

 

১. পাশে দাঁড়ান: সন্তানকে অপমান বা হুমকি না দিয়ে তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলুন।

 

২. কারণ জানার চেষ্টা করুন: কী কারণে সে মাদকের দিকে ঝুঁকেছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন।

৩. চিকিৎসা নিশ্চিত করুন: চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা মাদকাসক্তি চিকিৎসায় অভিজ্ঞ পেশাজীবীর পরামর্শ নিন।

 

৪. চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করুন: প্রয়োজন অনুযায়ী স্বীকৃত ও উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রের সহায়তা নিন।

৫. সুস্থ পরিবেশ তৈরি করুন: খেলাধুলা, শিক্ষা, সৃজনশীল কাজ ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে উৎসাহ দিন।

 

৬. নিয়মিত খোঁজ রাখুন: চিকিৎসা চলাকালে সন্তানের মানসিক অবস্থা ও সুস্থতার অগ্রগতি সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

 

মনে রাখবেন, মাদকনির্ভরতা একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। সঠিক সময়ে সহযোগিতা পেলে অনেকেই সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

শেষ আহ্বান

একটি সন্তান শুধু একটি পরিবারের সম্পদ নয়, সে দেশের ভবিষ্যৎও।

 

তাই মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসন—সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন।

সন্তানকে ঘৃণা নয়, ভালোবাসা দিয়ে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনুন।

 

আসুন, সবাই মিলে গড়ে তুলি মাদকমুক্ত পরিবার, মাদকমুক্ত সমাজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ।

 

লেখক: মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, সংবাদকর্মী, টেকনাফ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

copy off