
মোঃ আরাফাত সানি, বিশেষ প্রতিবেদক।
মাছের ঘের নয়, ধানের জমির পাশের নালা। উপরে স্বচ্ছ পানি, নিচে বস্তা ভর্তি ইয়াবা। মাদক কারবারিরা এবার পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে বেছে নিয়েছিল পানির নিচের অভিনব কৌশল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি) এর জালে ধরা পড়ল ৩ লাখ পিস ইয়াবার বিশাল চালান। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে।
এসআরবি-১৫ সূত্র জানায়, ২৮ অক্টোবর দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচ্ছপিয়া এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র বড় একটি চালান হাতবদলের জন্য অবস্থান করছে। এই খবরে সিপিএসসি, কক্সবাজারের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মৌলভীরকাটা কেচোবুনিয়াছড়া এলাকায় জেবর মল্লিকের চাষের জমিতে অভিযান চালানো হয়। এসআরবির উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে গেলেও ধরা পড়েন খালেদা বেগম (৪০) নামে এক নারী মাদক কারবারি। তিনি ওই এলাকার কাদের হোছনের মেয়ে।
আটকের পর শুরু হয় আসল চমক। জিজ্ঞাসাবাদে খালেদা স্বীকার করেন- ইয়াবাগুলো লুকানো আছে। তার দেখানো মতে জেবর মল্লিকের জমির পাশে বাঁশের সাঁকো সংলগ্ন নালার পানির নিচে তল্লাশি চালায় এসআরবি। পানির নিচ থেকে বিশেষ কৌশলে ডুবিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৩ লাখ পিস ইয়াবা।
এ সময় তার কাছ থেকে মাদক কারবারে ব্যবহৃত ১টি অ্যান্ড্রয়েড ও ১টি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।
এসআরবি-১৫ এর মিডিয়া উইং জানায়, এই চক্রের সাথে খালেদার দুই ছেলেসহ আরও কয়েকজন জড়িত। তারা পলাতক রয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।
এসআরবি-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও জব্দকৃত মোবাইলসহ গ্রেপ্তার নারীকে রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এসআরবির এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, কচ্ছপিয়ার মতো দুর্গম এলাকাকে নিরাপদ ভেবে মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে এই রুট ব্যবহার করছিল। পানির নিচে ইয়াবা লুকানোর এই নতুন কৌশল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে।
copy off
Leave a Reply