
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালের কোয়ার্টারের বাইরে এক যুবকের সঙ্গে সময় কাটানোর অভিযোগ উঠেছে মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে আসা নার্স মর্জিনা আক্তারের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে থাকা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল জলিল
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বলে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, মর্জিনা আক্তার প্রায়ই হাসপাতালের কোয়ার্টারের বাইরে গিয়ে সময় কাটান। হাসপাতালে কোন নির্দিষ্ট ডিউটি থাকে না। কখন রোগী আসবে হাসপাতালে ভিতরে থাকতে হয় কিন্তু তিনি সবসময় এক অপরিচিত ছেলের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। সময়মতো ডাক্তাররা থাকে রোগী আসলে কোয়ার্টারে পাওয়া যায় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ- সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল জলিল বলেন, নার্স মর্জিনা আক্তার কে আমরা সবসময়ই হাসপাতালে কোয়ার্টারে পাওয়া যায় না রোগী আসলে তাকে ফোন করে খুঁজ নিতে হয়। এ বিষয়ে আমাদের সুপার ভাইজার ডাক্তার নওশাদ আলম কাননকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। আর স্থানীয়রা আমাদের কাছে অভিযোগ করছে তার কোয়ার্টারে সবসময় একটি যুবক আসা যাওয়া করে এ নিয়ে হাসপাতালে ঝামেলা হয়েছে।
আরেক উপ- সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এসব দেখলেও আমাদের হাত পা বাঁধা কারণ কিছু বলতে গেলেই আমার উপর দিয়ে আসবে। আমাদের বদনাম হবে। আমার কথা হচ্ছে কেন অপর একটি পুরুষ আমাদের হাসপাতালে কোয়ার্টারে আসা যাওয়া করবে এবং নার্স এর রুমে গিয়ে বসবে এ নিয়ে আবার বাইরের মানুষ অভিযোগ করবে লজ্জার বিষয়।
সেন্টমার্টিন এর বাসিন্দা মোঃ জোবায়ের বলেন, মর্জিনা নামক নার্স ও সেন্টমার্টিন আয়াজ এর সঙ্গে সবসময় সাগরপাড়ে দেখা যায়। হাসপাতালে খুলা অবস্থায় দুইজন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে। বিভিন্ন লোকজন সবসময় দেখে আওয়াজ মেয়েটির কোয়ার্টারে গিয়ে সময় কাটায় এ নিয়ে হাসপাতালে তাকে না যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত নার্স মর্জিনা আক্তার বলেন, আয়াজ তাঁর স্বামীর দূরসম্পর্কের আত্মীয়। এ কারণে তিনি আয়াজের সঙ্গে সময় কাটান এবং আয়াজও সেখানে আসেন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, আয়াজ বলেন, মর্জিনার সঙ্গে তাঁর বোনের মতো সম্পর্ক। এ সম্পর্কের সূত্রে তিনি নিয়মিত মর্জিনার কাছে যান এবং মর্জিনাও তাঁর বাড়িতে আসেন। মর্জিনার সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক হওয়ার পর তাঁর স্বামী তাঁকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন বলেও দাবি করেন আয়াজ। তবে তাঁরা রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় নন বলে স্বীকার করেন তিনি।
আয়াজকে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে মর্জিনার স্বামী মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাঁদের সম্পর্কের ধরন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে
এ বিষয়ে নার্স মর্জিনা আক্তার ও আয়াজের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। মর্জিনা আয়াজকে তাঁর স্বামীর দূরসম্পর্কের আত্মীয় বলে দাবি করলেও আয়াজ জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বোনের মতো সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় নন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, আয়াজ মর্জিনার আত্মীয় নন। ফলে তাঁদের সম্পর্কের ধরন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সেন্টমার্টিন ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সুপার ভাইজার ডাক্তার নওশাদ আলম কানন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি আমি নার্স এর স্বামীর সঙ্গে কথা বলব। মেয়েটি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মা শিশু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।
copy off
Leave a Reply