
এক্সক্লুসিভ- টেকনাফ নিউজ ৭১
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ যেন এখন মাদক ও মানব পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য। টেকনাফ নিউজ ৭১ এর দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে টেকনাফ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডকে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে ইয়াবা ও মানব পাচারের বিশাল সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন চার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক কামাল, ইউসুফ, জুবায়ের ও আরসা নেতা সাইফ আলী। তাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের দুই কুখ্যাত সশস্ত্র সংগঠন আরসা ও আরকান আর্মির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মিয়ানমারের নাগরিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা কৌশলে টেকনাফ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে স্থানীয়দের মতো বসবাস করছেন। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তারা বাড়ি-ঘর করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এই এলাকাকে ঘাঁটি বানিয়ে তারা মাদক ও মানব পাচারের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারি ও দালালও তাদের এই নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত। তারাই নাফ নদী ও সাগরপথে চালান পারাপারে সহযোগিতা করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটি অত্যন্ত ভয়ংকর কৌশলে কাজ করে। তারা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা এবং মিয়ানমারের আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান আর্মির সাথে সরাসরি জড়িত থেকে অস্ত্রের বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা নিয়ে এসে পুরো টেকনাফ, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের সাথেও জড়িত এই চক্রটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, “কামাল, ইউসুফ, জুবায়ের ও সাইফ আলী সরাসরি মিয়ানমারের আরসা ও আরকান আর্মির সাথে যোগাযোগ রাখে। কখনো আরসা, কখনো আরকান আর্মির কাছ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র এনে এখানে সাপ্লাই দেয় এবং সেই অস্ত্রের বিনিময়ে ওপার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান নিয়ে আসে। আবার সেই ইয়াবা বিক্রির কোটি কোটি টাকা দিয়ে তারা মানব পাচার ও অস্ত্র ব্যবসা চালায়। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। যে মুখ খোলে তাকেই আরসা ও আরকান আর্মির ভয় দেখানো হয়।”
আরেক বাসিন্দা জানান, “রাতের আঁধারে নাফ নদী পার হয়ে তাদের ইয়াবার চালান আসে এবং একই বোটে করে টেকনাফের নিরীহ মানুষদের মালয়েশিয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেয়। পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে বসে তারা পুরো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কারণে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই ইয়াবা ও মানব পাচার ব্যবসার লাভের একটি বড় অংশ যায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা ও আরকান আর্মির কাছে। তারা সেই টাকা দিয়ে মিয়ানমারে অস্ত্র কেনে এবং তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালায়। অর্থাৎ ইয়াবা, মানব পাচার ও অস্ত্রের একটি ভয়ংকর ত্রিমুখী চক্র তৈরি হয়েছে টেকনাফ সীমান্তে, যার মূল নিয়ন্ত্রক এই চার রোহিঙ্গা।
এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডসহ পুরো টেকনাফের সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত এই চার রোহিঙ্গা কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “রোহিঙ্গা মাদক ও মানব পাচার কারবারিদের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য আছে। আমরা তাদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।
উল্লেখ্য, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও মানব পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই ধরনের বহিরাগত রোহিঙ্গা কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও তাদের নেপথ্যের গডফাদারদের বন্ধ না হলে সীমান্তে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কখনোই সম্ভব হবে না।
copy off
Leave a Reply