
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি বেসরকারি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে খৎনা করানোর দুই দিনের মধ্যেই অর্ধশতাধিক শিশুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের অভিযোগ উঠেছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দিনভর ৫৯ জন শিশু চিকিৎসা নিতে দ্বীপের হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও খৎনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, ১৪ সদস্যের মেডিকেল টিম ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ জন শিশুর খৎনা করে। তবে বিনামূল্যে করার কথা থাকলেও প্রতিটি শিশুর কাছ থেকে ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সেন্টমার্টিন হাসপাতালের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, “খৎনা করানো ৫৯ জন শিশু আজ হাসপাতালে এসেছে। অনেকের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুই জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় টেকনাফে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ভুক্তভোগী সালামত উল্লাহ বলেন, দুই দিন আগে তার ছেলে ফয়সালের খৎনা করানো হয়। ওষুধ দেওয়ার পরও ক্ষতস্থানের অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং টেকনাফে রেফার করা হয়। কিন্তু নৌযান না পাওয়ায় ছেলেকে টেকনাফে নিতে পারছেন না তিনি।
আরেক অভিভাবক নুর মোহাম্মদ জানান, তার ছেলে আয়াজের খৎনা করানোর দুই দিন পর হঠাৎ ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পড়া শুরু হয় এবং ব্যথায় শিশুটি কান্নাকাটি করতে থাকে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, খৎনার পর শিশুদের ক্ষতস্থান ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে মেডিকেল টিমের প্রধান চিকিৎসক মো. আব্দুর রহিম রিফাতের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক বলেন, “সেন্টমার্টিনে এ ধরনের খৎনা কর্মসূচির বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো হয়নি। জানানো হলে মেডিকেল টিম যাচাই-বাছাই করে অনুমতির বিষয়ে সুপারিশ করা যেত।”
এদিকে অনুমতিহীন এই কর্মসূচির বিষয়ে টেকনাফের ইউএনওর গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
কক্সবাজার জেলা ছাত্র শিবির এর সভাপতি আব্দুর রহিম নূরী তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে লিখেছেন- এ UNO কিভাবে UNO হলো? যার সামান্যতম কমনসেন্স নাই। তাকে অতিদ্রুত টেকনাফ থেকে বদলি করা হোক।
এ বিষয়ে টেকনাফের ইউএনও এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, “খৎনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা শুনেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।”
copy off
Leave a Reply