
ভুয়া পারিবারিক পরিচয়ে টেকনাফে রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ, নথিতে স্বামী-স্ত্রী ‘ভাই-বোন’, মায়ের জন্মের আগেই ছেলের জন্ম!
বিশেষ প্রতিবেদক | টেকনাফ ৭১
কক্সবাজারের টেকনাফে ভুয়া পারিবারিক পরিচয় ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন টেকনাফ পৌর এলাকার বশির আহমদ ও তার নাতি রশিদ আহমদ হেলালী।
অভিযোগকারীদের দাবি, পারিবারিক সম্পর্কের তথ্য পরিবর্তন করে একাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে এনআইডি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনআইডি নথিপত্র যাচাই করে বেশ কিছু গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-এক ব্যক্তির এনআইডিতে বশির আহমদ ও রশিদা বেগমকে বাবা-মা হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু নথিতে রশিদা বেগমের জন্মতারিখ ৮ অক্টোবর ১৯৭৩ এবং ওই ব্যক্তির জন্মতারিখ ১০ আগস্ট ১৯৭২ উল্লেখ রয়েছে।
কথিত মায়ের জন্মের প্রায় এক বছর আগেই কথিত সন্তানের জন্ম হয়েছে। এই অসঙ্গতি কীভাবে এনআইডি তথ্যভান্ডারে এসেছে, তা তদন্তের দাবি উঠেছে।
কাগজে ভাই-বোন, বাস্তবে স্বামী-স্ত্রী?
আরেকটি অভিযোগে বলা হচ্ছে, নছিমা বেগম ও দিল মোহাম্মদকে একই বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। অথচ অভিযোগকারীদের দাবি, তারা বাস্তবে স্বামী-স্ত্রী। এছাড়া আরও কয়েকজন ব্যক্তিকে একই পরিবারের সন্তান হিসেবে দেখিয়ে এনআইডি তৈরির অভিযোগও রয়েছে।
হেলালীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?
অভিযোগকারীদের দাবি, বশির আহমদের নাতি রশিদ আহমদ হেলালী এসব প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা করেছেন। তবে তার ভূমিকা ও অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, একই প্রক্রিয়ায় আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশি পরিচয়ে এনআইডি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মানবপাচার ও মাদক কারবারের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টদের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব গুরুতর অভিযোগের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিজদের এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, পারিবারিক তথ্য, ভোটার নিবন্ধনের কাগজপত্র এবং অন্যান্য সরকারি নথি যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে যদি তদন্তে কোনো এনআইডি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অবৈধভাবে তৈরি পরিচয়পত্র বাতিলের দাবি উঠেছে।
উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দাবি; আদালত বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।
copy off
Leave a Reply