
পর্ব ১
বিশেষ প্রতিবেদক, টেকনাফ।
চিকিৎসা সেবার নামে টেকনাফে গড়ে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর প্রেসক্রিপশন বাণিজ্য ও দালালি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন টেকনাফ মডেল ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) সভাপতি মিরাস উদ্দিন এবং তার সহযোগী গুটিকয়েক অসাধু চিকিৎসক।
পদের দাপট দেখিয়ে মানহীন ওষুধ রোগীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মিরাস উদ্দিন ‘কেমিকো’ নামের একটি মানহীন ও নামসর্বস্ব ওষুধ কোম্পানিতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত। ফারিয়া সভাপতির পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্থানীয় চিকিৎসকদের বাধ্য করেন প্রেসক্রিপশনে ওই কোম্পানির নিম্নমানের ওষুধ লিখতে। ফলে সাধারণ রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার বদলে আর্থিক ও শারীরিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মিরাস ‘ইউনানি হারবাল’ নামে আরেকটি অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের মূল দালাল হিসেবেও সক্রিয়। টেকনাফের গুটিকয়েক অনৈতিক ডাক্তারের সাথে হাত মিলিয়ে তিনি শক্তিশালী একটি প্রেসক্রিপশন সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই সিন্ডিকেটের অন্তর্ভুক্ত ডাক্তাররা চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের জোরপূর্বক ও বাধ্যতামূলকভাবে ইউনানি এবং হারবাল ওষুধ কিনতে বাধ্য করছেন। সেবার নামে ডাক্তার ও দালাল মিরাস মিলে রোগীদের পকেট কেটে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী শহিদুল আলমক অভিযোগ করে বলেন, “চিকিৎসক দেখানোর পর ওষুধ কোম্পানির লোকজন সিরিয়াল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে প্রেসক্রিপশন দেখার জন্য। কারণ কী? শুনেছি তারা চিকিৎসকদের অর্থসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে। সে অনুযায়ী চিকিৎসকরা তাদের কোম্পানির ওষুধ লিখছেন কি না, সেটা দেখা হয়। কোম্পানিগুলো মাসোহারা হিসেবে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে চিকিৎসকদের পেছনে। মাসোহারার এ টাকা কমিয়েও তো ওষুধের দাম কম রাখা যেত।”
একজন পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতির এমন বেপরোয়া দালালি এবং চিকিৎসকদের অনৈতিক আচরণে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ফারিয়া সভাপতির পরিচয় ব্যবহার করে মিরাস হাসপাতাল ও চেম্বারগুলোতে অবাধে দাপট দেখিয়ে বেড়ান। কোনো ডাক্তার তার কথা না শুনলে সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে হেনস্তা করারও হুমকি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মিরাস উদ্দিন বলেন, “আমার কাজ ওষুধ বিক্রি করা। আমি এবং আমার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে বিচার দিতে বলেন। ডাক্তাররা আমাদের কথায় ওষুধ লিখলে সেটা আমাদের করার কিছুই নেই।”
ফারিয়া সভাপতির পদের দাপট দেখিয়ে এগুলো করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “আমি যদি কোনো অনৈতিক কাজ করি আমার শাস্তি হবে, আপনারা নিউজ করে দেন।”
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রেজাউল হাসান* বলেন, “মানহীন ওষুধ লিখে রোগীকে জিম্মি করা খুবই দুঃখজনক। আমি সবেমাত্র শুনেছি। জেলা সিভিল সার্জনকে অবগত করে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যত বড় নেতা হোক না কেন, চিকিৎসা সেবা নিয়ে অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
টেকনাফের সুশীল সমাজ অবিলম্বে স্বাস্থ্য প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
আরও বিস্তারিত জানতে তথ্য জানতে চোখ রাখুন দ্বিতীয় পর্বে…
copy off
Leave a Reply