
নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া।
উখিয়ার ওয়ালাপালং মৌজায় সরকারি খাস জমি নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছরের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগী মুসলিম পরিবারের অভিযোগ, শ্মশানের অজুহাত ও সংখ্যালঘু তকমা ব্যবহার করে তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।
নথি অনুযায়ী, ওয়ালাপালং মৌজার আরএস ৭০৮৪, বিএস ৭০২৯ দাগের ১.১২ একর জমি সরকারি খাস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত, মন্তব্য কলামে ‘শ্মশান’ লেখা। স্বত্ব ও দখলদার কলামে চট্টগ্রাম কালেক্টর।
১৯৮৬ সালে তৎকালীন তহশিলদার তদন্তে দেখেন, ০.৪০ একর জমিতে জাকের হোসেন মুন্সী, পিতা বাচা মিয়া ৪০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসতবাড়ি হিসেবে বসবাস করছেন। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শ্রেণী পরিবর্তন মামলা ১/৮৬-৮৭ রুজু হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ৩-১২-১৯৮৬ তারিখে শ্রেণী ‘শ্মশান’ থেকে ‘বসতবাড়ি’ পরিবর্তনের অনুমোদন দেন। এর আলোকে বন্দোবস্ত প্রস্তাব ৬৫/৮৬-৮৭ এবং বন্দোবস্ত মামলা ৭৬/৮৬-৮৭ সৃজিত হয়।
২০০৭ সালে রতন দে ও দীপক মল্লিক ১৩ ব্যক্তি ও শ্মশানের উত্তরের ১৫টি দোকানকে অবৈধ দখলদার উল্লেখ করে উচ্ছেদ আবেদন করেন জেলা প্রশাসকের কাছে। জেলা প্রশাসক ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ দিলে ভূমি অফিস (স্মারক ৩৪৫, ৩০/০৪/০৭) প্রতিবেদনে জানায়, ০.৪০ একর জাকের হোসেনের নামে বন্দোবস্তের জন্য কর্তনকৃত। বাকি ১৩ জন ও ১৫ দোকানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের সুপারিশ করা হয়।
পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। সিনিয়র সহকারী জজ, উখিয়ার অপর-২০৯/২০১২ মামলায় ৩০/০৫/২০১৯ তারিখে বাদীপক্ষের মামলা খারিজ হয়। আপিলে জেলা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল ২৩/০৯/২০২১ তারিখে নিম্ন আদালতের রায় রদ-রহিত করেন।
রায়ে আদালত বলেন, বাদীপক্ষ দীর্ঘদিন গৃহ, নলকূপ, ল্যাট্রিন সহ বসবাসরত আছে, ১৯৮৬ সালে শ্রেণী পরিবর্তন হয়েছে ও রাজস্ব বিভাগ বন্দোবস্তের সুপারিশ করেছিল। তাই তারা ৪০ শতক বন্দোবস্ত পাওয়ার হকদার। তবে সরকারের বিরুদ্ধে Adverse Possession ডিক্রি পাবে না, বন্দোবস্ত দেওয়া সরকারের Discretionary power।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রায়ের পর ১ থেকে ১৩ নং ও ১৫ দোকানের মালিকদের সাথে আঁতাত করে শুধু ৯ নং বিবাদী জাকের হোসেনের পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছে। শ্মশান ইস্যুকে সামনে এনে মানববন্ধন ও মামলা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, ওই ১৩ জন ও দোকান মালিকদের কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের সময় শ্মশানের সীমানা বাদ রাখতে ২৭ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
২০২১ সালে এ নিয়ে ফলিয়াপাড়া থেকে উপজেলা গেট পর্যন্ত মানববন্ধনে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল এহেসান খান ও ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। পরে এডিসি মো. পারভেজ ও অ্যাডভোকেট রনজিতের উপস্থিতিতেও বৈঠক হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, উভয় বৈঠকেই তারা দলিল, অর্ডার শিট, ট্রেস ম্যাপ দেখালেও অপরপক্ষ পর্যাপ্ত দলিল দেখাতে পারেনি। প্রশাসনের নথিতে জমিটি এখনো জেলা প্রশাসকের নামে খাস জমি হিসেবেই রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার দলিল-রেকর্ডের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
copy off
Leave a Reply