
নাছির উদ্দীন রাজ, টেকনাফ।
কক্সবাজার টেকনাফের গহীন পাহাড়ে র্যাব ও পুলিশের যৌথ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ফেনীর ৪ জন তরুণ কে টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন, ফেনী জেলার দাগনভূঞা থানার আব্দুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান (২৩), মোঃ নিজাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ এমাম হোসেন (১৮), পৌর সভার মোঃ সেলিমের ছেলে তহিদুল ইসলাম তামিম (১৯) ও হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদে কক্সবাজার র্যাব ১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বিষয় টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ২৬ জুন রাতে ফেনী থেকে কক্সবাজার টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এসে হঠাৎ নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান (২৩) এবং তহিদুল ইসলাম তামিম(১৯) নামের দুই তরুণ। পরিবারের আবেদনে ২৮ জুন ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২২১) করা হয়। পরবঅতীতে ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে র্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, নিখোঁজ তরুণরা কোনো সাধারণ নিখোঁজ নন, বরং তারা টেকনাফের একটি কুখ্যাত পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের জালে বন্দি।
তারি ধারাবাহিকতায় (আজ ৩০ জুন) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্লেষণের পর র্যাব-১৫, সিপিসি-১ এবং টেকনাফ থানা পুলিশ একযোগে টেকনাফের হ্নীলা ইউপির ৭ নং ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার চরম দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ে প্রবেশ করে। চারপাশ থেকে পাহাড় ঘেরাও করে যখন যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে, তখন অপরাধীরা মরণপণ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও এলিট ফোর্সের রণকৌশলের সামনে টিকতে না পেরে জঙ্গল ও খাড়া পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যায়। এরপর পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৪ জন ভিকটিমকে।
তিনি আরো জানান, উদ্ধারের পর ভিকটিমদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অপহরণকারী চক্রটি তাদের গহীন পাহাড়ের আস্তানায় হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছিল। এরপর পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমদের ওপর চালানো হতো মধ্যযুগীয় বর্বর শারীরিক নির্যাতন। উদ্ধার না হলে যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের জীবনহানির আশঙ্কা ছিল।
উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের উদ্ধার পরবর্তী প্রাথমিক পরিচয় শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস অপহরণ চক্রের মূল হোতা এবং তার সহযোগীদের সমূলে উপড়ে ফেলতে র্যাব ও পুলিশের চিরুনি অভিযান দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply