
বিশেষ প্রতিবেদক,
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া ও নাইট্যংপাড়া ১/৭ নং ওয়ার্ডে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ মাদক, চোরাকারবারি ও মানব পাচারকারী সিন্ডিকেটের সন্ধান মিলেছে। টেকনাফ জেটিঘাটকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিদিন মিয়ানমারে খাদ্যসামগ্রী পাচার এবং বিনিময়ে ইয়াবা নিয়ে আসছে চক্রটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেটিঘাট ও নাইট্যং পাড়া পিএসপি ও বাংলালিংক টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ট্রলারে করে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য মিয়ানমারে পাচার করা হয়। আর রাতের আঁধারে একই ট্রলারে ফিরে আসে ইয়াবার বড় চালান। একই ঘাট ব্যবহার করে সমান তালে চলছে আদম পাচারও। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ কারবারে রয়েছে কিছু মুখোশধারী নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন। ফলে যুব সমাজ বাধা দিতে গেলেই প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায় তারা।
এই সিন্ডিকেটে কাজ করা এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ২৫ জন মিলে এই কাজ করি। আমাদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। কিছু প্রশাসন বিষয়গুলো জানে। তাদের মধ্যে দায়িত্বরত কয়েকজনকে ম্যানেজ করে আমরা কাজ করি। তারা সুযোগ না দিলে আমরা কাজ করতে পারবো না। সুযোগ দিচ্ছে বলেই কাজ করতে পারছি। আজকে আমরা একজনে ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছি। দয়া করে আমার নাম প্রকাশ করবেন না।”
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “জালিয়াপাড়া সীমান্তের ইয়াবা ও মানব পাচারকারীরা যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন এবং যে দলেরই হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সঠিক নাম-ঠিকানা দিয়ে সহযোগিতা করুন।”
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “যুব সমাজকে মাদক ও মানব পাচারের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় আমাদের অভিযান আরও জোরদার থাকবে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারা যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। যদি আমাদের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দ্রুত এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছেন জালিয়াপাড়ার সচেতন যুব সমাজ ও এলাকাবাসী।
দ্বিতীয় পর্বে থাকছে – তাদের নাম-পরিচয় সহ বিস্তারিত…
copy off
Leave a Reply