
নাছির উদ্দীন রাজ, টেকনাফ।
কক্সবাজার উখিয়া টেকনাফের ৩২ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প জুড়ে এক সাথে শুরু হয়েছে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বজন হারানোর আর্তনাত ও নিজ দেশে ফিরার আকুতিতে সমাবেশ। যেটিকে তারা গণ হত্যা দিবস হিসেবে পালন করেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের ৩২ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা ৪/৫ ভাগে বিভক্ত হয়ে কয়েকটি স্থানে ( জাদিমুড়া, কুতুপালং সহ ,) উক্ত সমাবেশ করেন। এ সময় বিভিন্ন ক্যাম্পের মাঝি, রোহিঙ্গা নেতা, শিক্ষক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি, আলেম সমাজ থেকে শুরু করে অনেকেই বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ও মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার শিশু, নারী, যুবক ও বৃদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে রোহিঙ্গা নেতারা তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।

এ সময় তাদের সকলের কন্ঠে একটি স্লোগান , নিরাপদে মিয়ানমারের আরকানে দ্রুত ফিরতে চাই, গণহত্যা কারিদের বিচার চাই। ওই বক্তব্যে কেউ রোহিঙ্গা ভাষায়, কেউবা ইংরেজিতে আবার কেউ রাখাইনের মিয়ানমার ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ক্যাম্প ২৬ এর হেড মাঝি বদরুল ইসলাম বলেন, আমরা রোহিঙ্গা জাতি আমাদের একটাই দাবি আমরা দ্রুত মিয়ানমারে ফিরতে চাই। মিয়ানমারে রেখে আসা আমাদের ভিটা মাটির জন্য মন জ্বলছে। জান্তা বাহিনী আমাদের জোরপূর্বক ২০১৭ সালে রাখাইন মুসলিমদের ওপর নির্যাতন, হত্যা চালানোর কারণে আমরা প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি। অথচ মিয়ানমার সরকার যদি চাই আমরা এখনো আমাদের পিতা-মাতা এবং মিয়ানমারের নিজের জমির দলিল, এনআইডি সহ সব কিছুর প্রমজন দেখাতে পারব। সুতরাং আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা বিশ্ব নেতাদের আহবান করব। আপনেরা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান এবং মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরার সহযোগিতা করেন।

রোহিঙ্গা কাউন্সিল মোহাম্মদ তাদের তাহার বক্তব্যে দাবি করেন, আমরা আরকানের রোহিঙ্গা মুসলিম জাতি। আমাদের অধিকার গুলো নিয়ে আমরা মিয়ানমারে ফিরতে চাই। আমরা বাংলাদেশের সমাবেশ থেকে আন্তর্জাতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি , আমাদের মৌলিক অধিকার, সামাজিক মর্যাদা, আরকানে চলাচলের স্বাধীনতা, ব্যবসা বানিজ্য সহ অন্যাআন্য জাতির মত সুযোগ সুবিধা গুলো দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আর কত বছর বাংলাদেশে ১৭ ফিট একটি ত্রিপল বা পলতিনের নিচে পিতা,মাতা,ছেলে,সন্তান নিয়ে এক সাথে বসবাস করে জীবন শেষ করব। কেন আমাদের অন্যের দেশে থাকতে হবে। তারা তো আমাদের মানবাধিকারের স্বার্থে স্বল্প সময়ের জন্য আশ্রয় দিয়েছে। তাই আমরা দ্রুত আমাদের জন্ম ভূমি রাখাইনে ফিরতে চাই। যতদ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাস কার্যকর করার জন্য সমস্ত রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর নির্যাতন, হত্যা ও অত্যচারের মুখে প্রাণ বাঁচাতে নাফ নদী ও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে আসেন ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। পরবর্তীতে কোন না কোন ভাবে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে আরো অনেক নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। যাতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের সংখ্যা আরো বেড়েছে। দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর যত বাড়ছে ততই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের সংখ্যা আরো বাড়ছে। তাই যতদ্রুত সম্ভব ক্যাম্পে অবস্থান রত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসের উদ্যোগ দিতে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
copy off
Leave a Reply